ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প | Bengali Horror Story | Banglar Biplab



অন্ধকার রাত, পরিত্যক্ত বাড়ি আর অশরীরী আতঙ্ক – পড়ুন এক ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প। Banglar Biplab আপনাকে দেবে গায়ে কাঁটা দেওয়া অভিজ্ঞতা।

মানুষ যুগ যুগ ধরে ভূতের গল্প শুনে এসেছে। ভয় আর রহস্য মানুষের মনে এক অদ্ভুত টান তৈরি করে। আজকে Banglar Biplab আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছে এক দীর্ঘ, ভয়ঙ্কর এবং শিহরণ জাগানো গল্প। গল্পটি কল্পনাপ্রসূত হলেও এর প্রতিটি অধ্যায় আপনাকে গায়ে কাঁটা দেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা দেবে।

রাত তখন প্রায় বারোটা। গ্রামটা নিস্তব্ধ। দূরে মাঝে মাঝে কুকুরের ডাক শোনা যায়। অরণ্যের ধারে পুরনো একটা জমিদারবাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। বহু বছর ধরে কেউ ওখানে থাকে না। গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করে বাড়িটা অভিশপ্ত।

সেই রাতে তিনজন বন্ধু – অরূপ, শুভ আর দীপ – সিদ্ধান্ত নিল তারা জমিদারবাড়িটায় যাবে।
তাদের কৌতূহল ছিল – সত্যিই কি ভূত আছে?

অরূপ হেসে বলল –
“এগুলো সব গাঁয়ের বানোয়াট কথা। আমরা গিয়ে দেখে আসব।”

কিন্তু দীপ একটু ভয় পেয়েছিল। তবুও বন্ধুরা মিলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

বাড়িটার প্রধান ফটক ভাঙা, লোহার দরজাটা মরচে ধরে গেছে। ভেতরে প্রবেশ করার সাথে সাথেই অদ্ভুত ঠান্ডা হাওয়া বইতে লাগল। চারপাশ অন্ধকার, শুধু টর্চলাইটের আলোয় দেওয়ালে পুরোনো ছবিগুলো দেখা যায়। ছবির চোখগুলো যেন তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।

হঠাৎ শুভর কানে ফিসফিস শব্দ শোনা গেল।
কেউ যেন বলছে –
“ফিরে যাও… ফিরে যাও…”

তারা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগল। ওপরতলার এক ঘর থেকে আলো ঝলক দেখা গেল। অথচ বাড়িটায় তো বিদ্যুৎ নেই।
অরূপ সাহস নিয়ে দরজা খুলল।
ভেতরে একটা মেয়ের সাদা শাড়ি পরা ছায়া দাঁড়িয়ে আছে। চুলগুলো এলোমেলো, মুখ দেখা যাচ্ছে না।

হঠাৎ করেই দরজাটা জোরে বন্ধ হয়ে গেল। বাতাস ভারী হয়ে উঠল। টর্চের আলো নিভে গেল।

শুভ ভয়ে চিৎকার করল –
“এটা সত্যি… এটা ভূত!”

সেই বাড়ির ইতিহাস জানা গেল পরে। একসময় জমিদার হরিদাস বাবু ভয়ংকর নিষ্ঠুর ছিলেন। তিনি প্রজাদের উপর প্রচুর অত্যাচার করতেন।
তার একমাত্র কন্যা, মাধুরী, প্রেমে পড়েছিল এক সাধারণ কৃষকের সঙ্গে। জমিদার এই সম্পর্ক মেনে নেননি। তিনি কৃষককে মেরে ফেলে দেন আর মেয়েকে বন্দি করে রাখেন।

শোনা যায়, সেই মেয়েটিই আত্মহত্যা করে। মৃত্যুর আগে সে অভিশাপ দিয়েছিল –
“এই বাড়িতে শান্তি কোনোদিন থাকবে না।”

সেই থেকেই জমিদারবাড়ি অভিশপ্ত।

বন্ধুরা পালাতে চাইছিল, কিন্তু বাড়ির ভেতরের পথ যেন বদলে গেছে। একবার যে করিডরে ঢুকছে, আবার সেই করিডরেই ফিরে যাচ্ছে।
অরূপ বুঝল – তারা ভূতের খেলায় আটকা পড়েছে।

দীপ হঠাৎ দেখল দেওয়ালে রক্ত দিয়ে লেখা –
“তোমরা এখান থেকে বাঁচতে পারবে না।”

একসময় সাদা শাড়ি পরা সেই মেয়েটি আবার দেখা দিল। এবার তার মুখ স্পষ্ট। চোখ ফাঁকা গর্তের মতো, মুখ রক্তে ভরা।
সে চিৎকার করল –
“কেন এসেছো? আমার শান্তি নষ্ট করতে এসেছো?”

অরূপ ভয়ে কাঁপলেও সাহস করে বলল –
“আমরা শুধু দেখতে এসেছি। আমাদের যেতে দাও।”

কিন্তু ভূত ভয়ানক হাসল। হঠাৎ করেই শুভর শরীর কাঁপতে শুরু করল। মনে হলো কেউ তাকে ভেতর থেকে টেনে ধরছে।

দীপ মনে করল গ্রামের বুড়ো সাধুর কথা। সাধু একদিন বলেছিলেন –
“যদি জমিদারবাড়িতে যাও, ঈশ্বরের নাম নিতে ভুলো না।”

তারা একসাথে জপতে লাগল – ওঁ নমঃ শিবায়

অদ্ভুতভাবে ভূতের চিৎকার ক্ষীণ হয়ে এল। ধীরে ধীরে ছায়াটা মিলিয়ে গেল। দরজাটা খুলে গেল।

তারা প্রাণ নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এল।
গ্রামের মানুষদের সব কথা এবার সত্যি মনে হলো।

শুভ খুব অসুস্থ হয়ে পড়ল। ডাক্তার কিছুই খুঁজে পেল না, কিন্তু তার শরীর দুর্বল হয়ে গেল।

অরূপ আর দীপ প্রতিজ্ঞা করল – জীবনে আর কখনো ভুতুড়ে জায়গায় যাবে না।

উপসংহার

এ গল্প কেবল একটি ভৌতিক কাহিনি নয়, বরং একটি শিক্ষা। অশরীরী জগৎ নিয়ে হয়তো বিজ্ঞান কিছুই প্রমাণ করতে পারেনি, কিন্তু মানুষের বিশ্বাস, অভিশাপ এবং আতঙ্ক একসাথে মিলে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

ভয়ঙ্কর ভূতের গল্প সবসময় আমাদের মনে রহস্য জাগিয়ে তোলে। হয়তো সত্যি কিছু আছে, হয়তো নেই। কিন্তু ভয়, অন্ধকার আর কল্পনা—এই তিনের মিশ্রণেই জন্ম নেয় ভৌতিক কাহিনি।

✨ Follow Us

👉 Facebook: Biplab Das
👉 Instagram: Technobipu24
👉 YouTube: Banglar Biplab
👉 Read More Stories: Banglar Biplab Blog


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন