অন্ধকারে ঢাকা এক গোপন সত্য – Part 3 



 ভূমিকা

এই গল্পটি পড়ে আপনি হয়তো ভাববেন, এটা একটি বানানো কল্পনা। কিন্তু আমি আপনাকে বলছি, আমি নিজেই এই ঘটনার শিকার। আগের পর্বে আপনাদের জানিয়েছিলাম পোড়োবাড়ির ইতিহাস, নৃপেন মল্লিকের অভিশপ্ত কাহিনী। এবার আমি জানাবো কীভাবে আমিও সেই অভিশাপের অংশ হয়ে উঠলাম...

সেদিন ছিল শুক্রবার। কাজ থেকে ফিরে বসেছিলাম লেখার টেবিলে। আগের রাতের সমস্ত ঘটনা এখনও মনের মধ্যে দোল খাচ্ছে।
হঠাৎ খেয়াল করলাম, আমার হাত ঠিকভাবে চলছে না। কলমটা বারবার পড়ে যাচ্ছে। মাথায় যেন এক অদৃশ্য চাপ।
চোখের সামনে সবকিছু ঝাপসা।

আমার ডায়েরির পাতা খুলে ছিল, কিন্তু আমি কিছু লিখতে পারছিলাম না। যেন কেউ আমার ভিতর থেকে শক্তি শুষে নিচ্ছে।

তারপর আমি আয়নায় তাকালাম। নিজের মুখে দেখলাম—এক চোখ কেমন কালচে হয়ে গেছে। মনে হচ্ছিল কারো ছায়া আমার শরীরের অর্ধেক দখল করে নিয়েছে।

রাত ২:১৩। হঠাৎ দরজা নিজে থেকেই খুলে গেল।
আমি চিৎকার করতে যাচ্ছিলাম, ঠিক তখনই সেই একই ফিসফিসানি কানে এল –

"লিখে যা, আমার কথা লিখে যা…"

আমি ভয় পেলেও, এইবার পালালাম না। কারণ, আমি বুঝে গেছি – পালিয়ে লাভ নেই।

আমি ঘরের কোণে বসে ক্যামেরা চালু করলাম। রেকর্ডিং চলছিল। একটা মোবাইল ট্রাইপডে, আরেকটা হাতের কাছে।

হঠাৎ আমার সামনে একটা ধোঁয়ার মতো আকৃতি গড়ে উঠল।

তাঁর গলা শুনলাম –
"আমার কাহিনী শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের এক পূর্ণিমা রাতে… আমিও তোমার মতোই লিখতাম। কিন্তু কেউ আমার লেখাগুলো বিশ্বাস করেনি…"

আমি ফের গেলাম পোড়োবাড়ির সেই পুরোনো ঘরে। এবার একটু ভেতরে ঢুকেই দেখি, ডানদিকে একটা দরজার ফাঁক!
যেটা আগে দেখিনি।

আমি ঢুকতেই দেখি – ছোট্ট একটা ঘর, ছাদের উপর ঝুলছে একটা খাঁচা।
আর ঘরের মেঝেতে ছড়িয়ে আছে শত শত পুড়ে যাওয়া পৃষ্ঠা। প্রতিটা পাতায় লেখা একটাই লাইন:

“আমার কথা শুনলে, তোমার জীবনও পোড়ে যাবে…”

আমার পা কাঁপতে লাগলো।

ঘরের এক কোণে দেখি একটা মাটির প্রদীপ জ্বলছে – অথচ কেউ নেই সেখানে।
আর তখনই পেছনে এক ঠান্ডা নিঃশ্বাস –

"তুই শেষ করবি, না আমি শুরু করব?"

পুরোনো সেই ডায়েরি আবার খুললাম। এবার নতুন কিছু লেখা –

“নৃপেন মল্লিক-এর মৃত্যু শুধু আত্মহত্যা নয়, সে ফিরে এসেছিল—আর কেউ জানে না।”

“তার রক্ত দিয়ে আঁকা ছিল প্রতিটি মন্ত্র। শেষ মন্ত্রটি অপূর্ণ ছিল, কারণ লেখার শক্তি শেষ হয়ে গিয়েছিল তার।”

আমি বুঝলাম, এখন আমি সেই অপূর্ণ মন্ত্রের ধারক। আর এই কারণেই, সে আমার উপর ভর করেছে।

পরদিন সকালে বাড়ির বারান্দায় দেখলাম, দেয়ালে লেখা:
“তুই পালাতে পারবি না। লিখে যা।”

বাবা আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, কে লিখেছে এসব?

আমি চুপ। কারণ আমি জানি, আমি কিছু লিখিনি।

কিন্তু সেদিন সন্ধ্যায় এক ভয়ংকর ঘটনা ঘটে গেল—

আমি সোফায় বসে ছিলাম, হঠাৎ টিভি নিজে নিজে চলতে শুরু করে। স্ক্রিনে ভেসে এল সেই পোড়োবাড়ির ঘর।
আর তারপর – সেই ছায়া, ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলছে—

“শেষটা তুই বলবি। আমি শুনব…”

আজ আমি কলকাতায় থাকি। কিন্তু প্রতিদিন মাঝরাতে দরজা খোলে, খাতার পাতা ওলটায়, আর আয়নায় আমার পাশে ছায়া দেখা যায়।

আমি ঘুমোতে পারি না।
কখনও কখনও নিজেকে আয়নায় দেখি না – দেখি একজন অচেনা মানুষ।

আমি জানি, আমি আর আমি নেই।

তার মধ্যে কিছুটা সে ঢুকে পড়েছে।

এই ব্লগ লেখার সময়ও, বারবার খাতা খুলে যাচ্ছে নিজে থেকেই। লেখা উঠছে:

“শেষ পর্ব আসছে। তার পর কেউ বাঁচবে না…”

আমি জানি না এই গল্পের শেষ কোথায়।

কিন্তু আপনি যদি এখনও পড়ছেন, সাবধান হোন। কারণ আপনার মনেও হয়তো এই গল্পের কিছু ঢুকে গেছে।

 শেষ কথা:

এই কাহিনী এখানেই শেষ নয়। Part 4 খুব শীঘ্রই আসছে –
ভয়ংকর ভূতের কাহিনী – The Last Ritual

🙏 Follow Us for More Horror Stories:


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন