অন্ধকারে ঢাকা এক গোপন সত্য - Part 2 


রাত তখন ১১টা ৪৫ মিনিট। আগের দিনের ভয় এখনো গায়ে লেগে ছিল। আমি ঠিক করেছিলাম, এবার আর ভয় পেলে চলবে না।
পোড়োবাড়ির সেই অভিশপ্ত ইতিহাস এবার আরও গভীরভাবে জানতে হবে।
মোবাইলের ব্যাটারি ফুল চার্জ, ক্যামেরার লেন্স পরিষ্কার, আর সবার অজান্তেই আমি আবার চললাম সেই পোড়োবাড়ির দিকে।

আজকের রাতটা অদ্ভুত রকমের ঠান্ডা ছিল, যেন সময়ও থেমে আছে।

বাড়ির সামনে এসে দেখি গেটটা আজ সম্পূর্ণ বন্ধ।
গতবার যেখানে আধখোলা ছিল, আজ যেন কেউ ইচ্ছে করে আটকে রেখেছে।
আমি পকেট থেকে চাবির মতো দেখতে একটা ধাতব হুক বার করলাম – দরজা খুলেই ভিতরে ঢুকলাম।

ঘরে ঢুকে চারদিকে তাকিয়ে দেখি, দেয়ালে লালচে দাগ – মনে হচ্ছিল রক্তের ছাপ।

হঠাৎ পেছনে কে যেন ফিসফিস করে বলল –
"আবার ফিরে এলি?"

আমি থমকে গেলাম। কেউ নেই, শুধু জানালার কাচে আমার প্রতিবিম্ব।

পরদিন সকালে আমি আবার গেলাম সেই বুড়ো লোকটার কাছে।
তিনি এবার আমাকে এক পুরোনো ডায়েরি দেন – পোড়োবাড়ির এক বাসিন্দার লেখা।

১৯৭২ সালে, পোড়োবাড়ির কর্তা নৃপেন মল্লিক ছিলেন এক জনমানসিক বিকারগ্রস্ত মানুষ।
তিনি এক সাধুর কাছ থেকে তন্ত্র বিদ্যা শিখেছিলেন, যেটা তাকে ক্ষমতাশালী বানাবে বলে বিশ্বাস করতেন।

কিন্তু সেই সাধুর মৃত্যু হতেই তার উপর এক অভিশাপ নামে।

তারপর এক রাতে — স্ত্রী, দুই সন্তানকে কুঠারের কোপে খুন করে সে নিজে গলায় দড়ি দেয়।

সেই রাতেই আমি আবার ঢুকলাম। এবার সঙ্গে ছিল দুটো মোবাইল, হোমের তৈরি তাবিজ আর রুদ্রাক্ষ।

ঘরে ঢুকে একটা ভাঙা আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখি... আমার পেছনে দাঁড়িয়ে সেই ছায়া।

এইবার সে মুখ খুলে বলল,
"আমার গল্প বল, সবার সামনে বল, যাতে কেউ এই ভুল না করে!"

আমি ঘেমে গেছি, কিন্তু এবার পালালাম না।

ঘরে থাকা ক্যামেরার রেকর্ডিংয়ে ধরা পড়ল –

একটা ছায়ামূর্তি, হাত উঁচু করে আছে। চোখ দুটো জ্বলছে, আর সে বলছে,
"তারা আমাকে বিশ্বাস করেনি… তুমি কি করবে?"

এই ভিডিও আজও আমার ইউটিউব চ্যানেলে দেইনি। ভয় হয়, কেউ যদি সত্যিই সেই আত্মার নজরে পড়ে?

তেলিয়াচক গ্রামের লোকেরা আজও ওই বাড়ির কথা বলেন না।
যারা ঢুকেছিল, কেউ পাগল, কেউ আত্মহত্যা করেছে।

একদিন রাতে ঘুমোতে যাওয়ার সময় দেখি, খাতার পাতা খুলে গেছে –
লেখা হচ্ছে নিজে থেকেই –
"শেষ পর্ব এখনো বাকি…"

আমি এখন কলকাতায় থাকি।
কিন্তু মাঝরাতে দরজার খোলা-বন্ধ হওয়া, খাতার পাতার ওলট-পালট – এসব যেন সঙ্গী হয়ে গেছে।

আমি জানি, সে এখন আমার মধ্যেই আছে।

এই কাহিনী এখানেই শেষ নয়।

আগামী পর্বে আমি জানাবো, কীভাবে আমি নিজে আক্রান্ত হতে থাকলাম –
কীভাবে আমার লেখার শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ল, আর কীভাবে আমি আত্মাকে ত্যাগ করতে চাইলেও পারলাম না…

ভয়ংকর ভূতের কাহিনী Part 3 – খুব শীঘ্রই!

Follow Us for Next Horror Story Updates:

🔗 Facebook: https://www.facebook.com/Biplabdasbipu24
📸 Instagram: https://www.instagram.com/technobipu24
▶️ YouTube: https://www.youtube.com/@Banglarbiplab04
📚 Read More Stories: https://banglarbiplab.blogspot.com


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন