অন্ধকারে ঢাকা এক গোপন সত্য part 1

রাত তখন প্রায় ১১টা।
গভীর অন্ধকারে ঢাকা একটি ছোট্ট গ্রাম — নাম তেলিয়াচক, মুর্শিদাবাদ জেলার এক প্রান্তে অবস্থিত। সেখানেই শুরু হয় এই গল্প, একটি পোড়োবাড়িকে কেন্দ্র করে, যার ইতিহাসই যেন এক ভয়াবহ অভিশাপ।

আমি, বিপ্লব, একজন গ্রামভিত্তিক লেখক হিসেবে অনেক গল্প শুনেছি, লিখেছি। কিন্তু এই গল্পটা আমি নিজে দেখেছি, আমি নিজে অনুভব করেছি। এই গল্প আমার জীবনের সেই অধ্যায়, যা আজও ঘুমোতে গেলে আমায় তাড়া করে।

তেলিয়াচক গ্রামের প্রান্তে ছিল একটি প্রাচীন পোড়োবাড়ি। মানুষ বলত, রাত হলেই সেই বাড়ি থেকে কান্নার আওয়াজ শোনা যায়। গ্রামের কেউ সন্ধ্যার পর সেদিকে যায় না।
আমি সেদিন আমার মামারবাড়ি গিয়েছিলাম তেলিয়াচকে। মামা হেসে বললেন,
"তুই সাংবাদিক, না? গিয়ে দেখ ওই পোড়োবাড়ির ভূত কেমন!"

কৌতূহল আমাকে টেনে নিয়ে গেল। রাত ৯টা নাগাদ আমি একটা টর্চ আর মোবাইল নিয়ে রওনা দিলাম। দূর থেকে দেখলাম, বাড়িটা একেবারে অন্ধকার। চারপাশে বাঁশঝাড়, বাতাসের শব্দ শুনলে গা ছমছম করে।

বাড়ির গেটটা আধখোলা। ভিতরে ঢুকতেই মনে হল, কেউ যেন চোখ রাঙিয়ে দেখছে। আমি মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে ঘর ঘর করে ভিতরে ঢুকলাম। হঠাৎ একটা ঘরের দরজা এমন শব্দ করে খুলে গেল যেন কেউ জোরে ঠেলে দিল।

আমি ভয়ে পিছিয়ে আসতে না আসতেই…
একটা ছায়ামূর্তি হঠাৎ করে পাশের ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে পড়ল। উচ্চতা ৬ ফুটের মত, চোখজোড়া আগুনের মত লাল। কোনো শব্দ নেই, শুধু তাকিয়ে আছে।

আমার গলা শুকিয়ে গেল। দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে এলাম।

পরের দিন গ্রামে এক বুড়ো লোকের সাথে কথা বললাম। তিনি বললেন,
“ওই বাড়িতে ১৯৭২ সালে গণহত্যা হয়েছিল। এক পাগলা লোক নিজের স্ত্রী, সন্তান সবাইকে মেরে নিজেও গলায় দড়ি দেয়। তারপর থেকে রাত হলেই সে ফিরে আসে…”

গ্রামের কেউ আজও ওই বাড়ির দিকে তাকায় না। কিছু ছেলে রাতে চ্যালেঞ্জ নিয়ে ঢুকেছিল – একজন আজও কথা বলতে পারে না।

আমি ঠিক করলাম, আবার যাব। তবে এবার প্রস্তুত হয়ে। সঙ্গে ক্যামেরা, গোঁজানো রুদ্রাক্ষ, হোম তৈরি তাবিজ।
রাত ১২টা ১৫ মিনিট। ঢুকতেই কুকুরের চিৎকার শুরু হল। ক্যামেরা অন করতেই ক্যামেরার ফ্রেম ব্লার হয়ে গেল।

একটা আওয়াজ – "তুই কেন এলি আবার?"

আমি তাকিয়ে দেখি – সেই আগুন চোখওয়ালা মানুষটা, এবার তার মুখে রক্ত! ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে।
আমি পিছু হটতে থাকলাম… এবং হঠাৎ সে যেন বাতাসে মিলিয়ে গেল।

সেদিন রাতে আর ঘুমাতে পারিনি। ক্যামেরায় কিছু রেকর্ড হয়নি। শুধু একটাই শব্দ রেকর্ডে ছিল –
"বাঁচতে চাস? সবার সামনে বল... আমি আসি…"

এই কথা ভাবলেই আজও আমার শরীর কেঁপে ওঠে।

এই কাহিনী এখানেই শেষ নয়। আমি বুঝতে পারলাম, ওই আত্মা এখন আমার সঙ্গেই আছে। আমার লেখার খাতার পাতা ঘুরে যায় রাতবিরেতে, দরজা খোলে-বন্দ হয়।
যখনি এই গল্পটা নিয়ে লিখতে যাই – কী যেন একটা ছায়া আমার পেছনে ঘোরে।

এই তো শুরু...
ভয়ংকর ভূতের কাহিনী Part 2-এ আরও ভয়াবহ ঘটনাগুলো আপনাদের সামনে আনব।

🔗 Follow Us Section (End of Blog):

📘 আমাদের ফেসবুক পেজে ফলো করুন – Facebook
📸 ইনস্টাগ্রামেও আপডেট পেতে – Instagram
▶️ নতুন গল্পের ভিডিও দেখতে – YouTube Channel
📚 আমাদের ব্লগে আরো গল্প পড়ুন – Banglar Biplab Blog


Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন