গল্পের নাম: ভয়ংকর সেই রাত
বছরখানেক আগে, আমি – তন্ময়, একজন ফটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করতাম। পুরোনো স্থাপত্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির উপর একটি ফটো প্রজেক্টের জন্য আমি পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার এক প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাত্রা শুরু করি। জায়গাটার নাম – গুপ্তপুর।
এই গ্রামটার নাম শুনলেই এলাকার লোকজন আঁতকে উঠত। কারণ? কেউ বলতো সেখানে রাত নামলেই ভুত দেখা যায়। কেউ বলতো, নাকি এক বুড়ি প্রেতাত্মা এখনো গ্রামের প্রাচীন আমগাছের নিচে হেসে বেড়ায়।
আমি এসব কথা উড়িয়ে দিয়ে, সকালে ট্রেনে চেপে খোড়জুনা হয়ে গুপ্তপুরের পথে পা রাখি।
গ্রামের প্রবীণ একজন মানুষ – কাশীনাথ দা’র সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, ২৫ বছর আগে এই গ্রামে এক ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিলো।
রাতে পূর্ণিমার চাঁদের নিচে গ্রামের একমাত্র পুরনো বাড়িটিতে সবাই একে একে নিখোঁজ হয়ে যায়। প্রথমে পরিবারের একমাত্র ছেলে, পরের দিন তার মা, এরপর বাবা – এভাবে পুরো পরিবার উধাও।
তাদের মৃতদেহ কখনো পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই ঐ বাড়িটিকে “ভূতের বাড়ি” বলা হয়।
আমি গুপ্তপুর পৌঁছে এক স্থানীয় বৃদ্ধার ঘরে রাত্রি কাটানোর বন্দোবস্ত করি।
রাত তখন ১২টা বাজে। হঠাৎ আমি বাইরে আমগাছের নিচে ফিসফিসানি শুনতে পাই।
জানলার ফাঁক দিয়ে দেখলাম, সাদা শাড়ি পরা এক নারী ধীরে ধীরে গাছের চারপাশে ঘুরছে। তার পায়ে জুতো নেই, আর সে মাটিতে পা না ছুঁয়ে ভাসছে!
ভয় আর কৌতূহল আমাকে জানলা থেকে সরে যেতে দিল না। হঠাৎ সে মুখ ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকায়—ধোঁয়াচ্ছন্ন চেহারা, চোখদুটো লাল! আমি ঘেমে একেবারে ঠাণ্ডা হয়ে যাই।
পরদিন সকালে সাহস করে গ্রামের সেই "ভূতের বাড়ি"-টিতে ঢুকি। দরজা ছিল অর্ধেক খোলা। ভিতরে ঢুকে আমি এক তীব্র ঠাণ্ডা অনুভব করি।
চালচুলোহীন বাড়িটা ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও, দেয়ালে এখনও একটি পরিবারের ছবি ঝোলানো ছিল।
হঠাৎ একটি ঘরের দরজা নিজে থেকেই খুলে যায়। আমি ভিতরে ঢুকে দেখি, একটি কাঠের টেবিলে একটি পুরনো ডায়েরি রাখা আছে। খুলে দেখি – সেটি সেই নিখোঁজ হওয়া ছেলেটির লেখা।
ডায়েরিতে লেখা ছিল –
"আমি জানি, মা আর বাবা আর ফিরবে না। গতরাতে আমি তাদেরকে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি, কিন্তু তারা মানুষ ছিল না... তারা এখন ওদের হয়ে গেছে।"
এই "ওরা" কে ছিল?
তৃতীয় রাতে আমি আবার সেই বাড়ির সামনে দাঁড়াই। ক্যামেরা হাতে নিয়ে অপেক্ষা করি কিছু ধারণ করার জন্য।
রাত ১টার সময় হঠাৎ বাড়ির ভেতর থেকে কাঁদো কাঁদো আওয়াজ ভেসে আসে।
আমি ভিতরে পা রাখতেই, পিছনের দরজা বন্ধ হয়ে যায়। অন্ধকারে টর্চ জ্বালাই – তখন দেখি সেই সাদা শাড়ির ছায়ামূর্তিটি একদম সামনে দাঁড়িয়ে।
সে মুখে বলল –
"আমরা এখনও এখানেই আছি... আমাদের মুক্তি চাই... কেউ আমাদের কথা শুনছে না!"
আমি ভয়ে পিছিয়ে আসি। তখন হঠাৎ করে সব অদৃশ্য হয়ে যায়। দরজা খুলে যায়। আমি দৌড়ে বেরিয়ে পড়ি।
পরদিন সকালে আমি দ্রুত গ্রাম ছেড়ে শহরে ফিরে আসি। কিন্তু সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত সেই কাহিনী আমার স্মৃতিতে গেঁথে আছে।
আমি জানি, যা দেখেছি – তা কল্পনা নয়। গুপ্তপুরের ভূতেরা আজও মুক্তির আশায় ঘোরাফেরা করে।
আমার ছবি, সেই ডায়েরি, আর রাতের ভিডিও এখনো আমার ল্যাপটপে আছে – কিন্তু আমি কখনো প্রকাশ করিনি।
কারণ সত্যি প্রকাশ পেলে কেউ আর সেই গ্রামে পা রাখবে না।
🔗 আমাদের সোশ্যাল মিডিয়াতে যুক্ত থাকুন (Follow Us):
📘 Facebook: https://www.facebook.com/Biplabdasbipu24
📸 Instagram: https://www.instagram.com/technobipu24
▶️ YouTube: https://www.youtube.com/@Banglarbiplab04
📖 Read Stories: https://banglarbiplab.blogspot.com
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন